"মাছের মাথাটি তুই দুইদিন হলোনা এলো,বউমার থালায় দিয়ে দিলি অপরূপা? হ্যাঁরে অপরূপা এই মেয়ে কি দুদিনেই তোর মাথাটি খেয়ে নিলো হ্যাঁ?"
আমি চুপচাপ বসে আছি আমার স্বামীর পাশে। এইতো ২ দিন হলো এ বাড়িতে পা রেখেছি। সকালে মাথায় ঘুমটি টেনে টেবিলে বসেছি। শাশুড়ী মা আমার থালায় মাছের মাথাটি দিতেই পাশ থেকে আমার ফুফু শাশুড়ী কথাটি বলে উঠলেন।
"মাথা খাবে কেনো আপা? আমারতো কোনো মেয়ে নেই। ছেলের বউকে কি মেয়ের চোখে দেখা যায়না? আর এছাড়া মেয়েটি নতুন নতুন মানিয়ে নিতে সমস্যা হবে আমি ওর ভীত'তাকে মিশতে চেয়ে কমাচ্ছি মাত্র। আমি যদি ওকে ছেলের বউ মনে করে সারাদিন জ্বালায় তাহলে মেঘ একদিন চুপ থাকবে, দুইদিন চুপ থাকবে কিন্তু একদিন না একদিন ওর মুখ খুলবেই। আমি স্নেহ করলেই মেঘ আমাকে শ্রদ্ধা করবে।"
শাশুড়ীর দিকে মুগ্ধ নয়নে তাকালাম। ফুফু শাশুড়ীর হয়তো কথাগুলো তেমন একটি ভালো লাগেনি।
বিকেলে মা আমাকে ওনার ঘরে ডেকে পাঠালেন। আমি যেতেই আমার হাত ধরে নিয়ে খাটে বসালেন। তারপর বললেন, "বসো মা।"
আমি বসলাম। তারপর বললেন,
"সকালের কথায় তুমি কিছু মনে করোনা মেঘ।"
"না মা আমি কিছুই মনে করিনি।
" আমি যখন এ বাড়িতে আসি ভয়ে এক চামচ ভাত নিতে হয়েছে। না জানি শাশুড়ী খাওয়া নিয়ে খোঁটা দেয়। পড়াশোনায় আমি খুব ভালোছিলাম। বুঝলি মা? কিন্তু মায়ের আদেশে তোর শুশুর আমাকে পড়াশোনা অব্দি করায়নি। সবসময় শাশুড়ীর মন জুগিয়ে চলার চেষ্টা করতাম। কিন্তু তাও মন জয় করতে পারিনি।"
কথাগুলো বলেই শাশুড়ী মা একটি দীর্ঘশ্বাস নেন। আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি। মনে মনে ভাবছি,
"নিজে কষ্ট করেছে বলেই কি মায়ের মন এতোটি কোমল আমার প্রতি!"
লিখেছে: মারশিয়া জাহান মেঘ
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন